স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া:
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও বন্যার পানিতে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক পরিবারের ঘরে পানি প্রবেশ করায় চুলায় আগুন জ্বলছে না। রান্না করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে বানভাসি মানুষের।
এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সমাজসেবক ও স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিটি ইউনিয়নে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে এসব খাবার পানিবন্দি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
পেকুয়া পৌরসভায় সাংবাদিক ছাফওয়ানুল করিমের নেতৃত্বে নৌকাযোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ সরাসরি না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়।” তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
মগনামা ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি ৮০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ত্রাণ বিতরণের প্রথম ধাপে ইউনিয়নের ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৮০০ পরিবারের হাতে শুকনা খাবার তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ডের বন্যাকবলিত মানুষের মাঝেও ত্রাণ বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।
নুরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে মগনামা ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকের ঘরে পানি প্রবেশ করায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন।
একই সময়ে মগনামা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৩০০ পানিবন্দি পরিবারের মাঝে নিজ উদ্যোগে শুকনা খাবার বিতরণ করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজ হাতে শুকনা খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন এবং দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন।
রাজাখালী ইউনিয়নে ইউপি সদস্য গোলাম রহমানের নেতৃত্বে ব্যক্তিগত অর্থায়নে শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাঁর এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
গোলাম রহমান বলেন, “রাজাখালী ইউনিয়নের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। বিশেষ করে আমার ওয়ার্ড লালজানপাড়ার শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানরা যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে দুর্গত মানুষের অনেক উপকার হবে।”
বারবাকিয়া ইউনিয়নে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী শাহাদাত কবির এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ৬০০ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।
শাহাদাত কবির বলেন, “বানভাসি মানুষ খুবই কষ্টে আছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানোকে আমি নৈতিক দায়িত্ব মনে করি। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করছি। ধারাবাহিকভাবে রান্না করা খাবার বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাব।”
এ ছাড়া পেকুয়া ঋণদান সমিতির সভাপতি তারেক ছিদ্দিকী ও বিএনপি নেতা ইউসুফ রুবেলের উদ্যোগে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
পেকুয়া পৌরসভার শেখের কিল্লাঘোনা, মৌলভীপাড়া ও মাইজপাড়ায় শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা এরশাদুল আলম।
বারবাকিয়া ইউনিয়নের সমাজসেবক মো. আলমগীর নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন।
পেকুয়া পৌরসভার গুলধি-সরকারি ঘোনা এলাকায় ১০০ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন চিকিৎসক ডা. এম. এ. মনছুর।
এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ ও শুকনা খাবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক সংগঠন, সমাজসেবক ও স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক উদ্যোগে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বানভাসি মানুষের মাঝে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
